ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫
আপডেট : ৯ জুলাই, ২০২০ ১১:৪৭

মৃদু উপসর্গের করোনায় মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি: গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
মৃদু উপসর্গের করোনায় মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি: গবেষণা

করোনাভাইরাসের উপসর্গহীন ও মৃদু উপসর্গের রোগীদের মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, অথচ এর লক্ষণ চিকিৎসকদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। বুধবার প্রকাশিত যুক্তরাজ্যে নিউরোলজিস্টদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওই গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরণের রোগীদের ক্ষেত্রে কভিড-১৯ এর লক্ষণ তেমন প্রকট হয় না, কিংবা তারা সুস্থ হয়ে গেছে বলে ধরে নেয়া হয়।

গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ৪০ জন কভিড-১৯ আক্রান্তের কথা বলা হয়েছে, যাদের এই রোগের লক্ষণের মধ্যে মস্তিষ্কের প্রদাহ, ডেলিরিয়াম থেকে শুরু কিরে নার্ভ ড্যামেজ এবং স্ট্রোক রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগের একমাত্র লক্ষণ ছিল নিউরোলজিকাল সমস্যা, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পরিচিত লক্ষণগুলো নয়।

মস্তিষ্কে করোনাভাইরাসের প্রভাবে মৃত্যুও হতে পারে। এরকমই একটি অবস্থাকে বলা হচ্ছে আ্যকিউট ডিসিমিনেটেড এনসেফালোমাইলিটিস বা সংক্ষেপে আ্যডেম। আর ব্রিটেনে এধরণের রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

জার্নাল ব্রেইনে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অন্তত এক ডজন কভিড-১৯ রোগী সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের প্রদাহে ভুগেছেন, ১০ জনের মস্তিষ্কের রোগ যেমন ডেলিরিয়াম বা সাইকোসিস দেখা দিয়েছে এবং আটজনের স্ট্রোক হয়। এছাড়া আরো আটজনের পেরিফেরাল নার্ভ প্রবলেম দেখা দেয়, যা থেকে প্যারালাইসিস হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। শতকরা ৫ ভাগের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে ব্রেনের যে ধরণের ক্ষতি হয়, অন্য কোনো ভাইরাসের ক্ষেত্রে তেমনটা দেখা যায় না। এর ফলে রোগীর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে। শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি না থাকলেও নিঃশ্বাসের কষ্ট, প্রচণ্ড ক্লান্তি, দূর্বলতা, অনুভূতিহীনতা, এমনকি স্মৃতিভ্রংশও হতে পারে।

গবেষণায় ৫৫ বছর বয়সী এক নারী রোগীর কথা বলা হয়েছে, যার আগে কখনো কোন মানসিক সমস্যা ছিল না।  কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন যখন, তখন তার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। তিনি বারবার তার কোট পরছিলেন আর খুলছিলেন, হ্যাল্যুসিনেশন বা দৃষ্টিবিভ্রমও হচ্ছিল তার। নিজের বাসায় বানর আর সিংহ ঘোরাফেরা করতে দেখছিলেন তিনি। পরে তাকে আবারো হাসপাতালে ভর্তি করে আ্যন্টিসাইকোটিক ওষুধ দেয়া হয়।

আরেকজন নারী, যার বয়স ৪৭ বছর, এক সপ্তাহ ধরে জ্বর-কাশিতে ভোগার পর হঠাৎ করেই তার ডান হাত অবশ হয়ে যায়। কথাবার্তায় সাড়া দিচ্ছিলেন না তিনি, ঘুম ঘুম ভাব। পরে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করতে হয় তার।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালস এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট এবং এই গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক মাইকেল জ্যান্ডি।

মাইকেল জ্যান্ডি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে মস্তিষ্কের প্রভাব সম্পর্কে আরো সতর্ক হতে হবে চিকিৎসকদের। বিশেষ করে, ক্লান্তি, অবসাদ, ঘুম ঘুম ভাব বা স্মৃতিভ্রষ্টতার মত লক্ষণ দেখা দিলে নিউরোলজিস্টদের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদে রোগীকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।

সবচেয়ে আশঙ্কার কথা, মস্তিষ্কের এই ক্ষতি হয়তো সহসাই বোঝা যাবে না, বরং অনেক পরে তার প্রভাব দেখা দেবে। সেক্ষেত্রে বৈশ্বিক মহামারীর অবসানের পরও অসংখ্য লোকের মৃত্যু হতে পারে। এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য এখনই সতর্ক হতে বলেছেন বিজ্ঞানীরা।

 

উপরে