পি কে হালদার: সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার কী হবে

ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার দেশে না ফেরায় পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক পরিচালক পি কে হালদার অসুস্থতার অজুহাতে দেশে না ফেরার কথা জানানোর পর তৈরি হয়েছে এ অনিশ্চয়তা।
চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দুদকের করা মামলায় বলা হয়, রিলায়েন্স ফিন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকার সময়ে আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন পি কে হালদার।
এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা।
চলতি বছরের শুরুতে পি কে হালদারের কানাডা পালিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এরপর তার পাসপোর্ট, সম্পত্তি জব্দ করা হয়। আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে অপসারণও করা হয়।
আদালতের নির্দেশে গত জানুয়ারিতে পি কে হালদারের সব ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আইনজীবীরা বলছেন, যেহেতু মামলাটি বিচারিক আদালতে বিচারাধীন, আদালতের রায় অনুযায়ীই অর্থপাচারের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কর্মকর্তারা বলেন, আদালতের নির্দেশ পেলে তারা অর্থ উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
তবে অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, পাচার করা টাকা ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া বেশ জটিল। এ কারণে পি কে হালদারের কাছ থেকে টাকা আদায় করা কঠিন হবে।
পাচার টাকা উদ্ধারে ‘সহযোগিতার জন্য’ ২৫ অক্টোবর নিরাপদে দেশে ফেরার নির্দেশনা পেতে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন পি কে হালদার।
তবে ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট হালদারকে দেশে আসার অনুমতি দিলেও ফেরার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। এরপর দেশে না আসার কথা জানিয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল খালেক খানকে শুক্রবার চিঠি দেন তিনি।
চিঠিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ দেখা গেছে জানিয়ে, এই সময়ে দেশে ফেরা যুক্তিসংগত হবে না বলে উল্লেখ করেছেন পি কে হালদার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো পলাতক ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করার আগে আইনি সুবিধা পেতে পারে না। মিথ্যা তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে আদালতই ব্যবস্থা নেবে।’
পি কে হালদার দেশে না ফিরলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে- জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিএফআইইউ’র প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, ‘অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে আমরা তখনই সাহায্য করতে পারব যখন আদালত থেকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে পাচার হওয়া কিছু অর্থ দেশে আনা হয়েছে। তখন আদালত থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ওই টাকা আনতে সিঙ্গাপুরের আদালতেও আমাদের মামলা করতে হয়েছিল।’
অর্থপাচার নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড.মইনুল ইসলাম।
তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাচার করা টাকা ফেরত আনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। ফলে পি কে হালদারের টাকা ফেরত আনার তেমন সম্ভবনা দেখছি না।’
এর আগে ২১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের মামলা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেই টাকা দেশে ফেরত আনতে সক্ষম হয় সরকার।