ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫
আপডেট : ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ১৪:১৮

ভোজ্য তেলের দাম কমাতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
ভোজ্য তেলের দাম কমাতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব

আমদানি, উৎপাদন ও বিপণন – তিন স্তরে তিন দফায় ভ্যাট নেওয়া হয় ভোজ্যতেলের ওপর। বাজারে উর্ধ্বমুখী দামের কারণে এখন উৎপাদকেরা বলছেন, পণ্যটির ওপর এক স্তরে ভ্যাট চালু করা হোক।

এ দাবি যৌক্তিক মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে চিঠিতে একস্তরের ভ্যাট আদায়ের পদ্ধতিতে একটা গ্রহণযোগ্য সিলিং নির্ধারণ করে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের আমদানি পর্যায়ে বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়াও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর রয়েছে। উৎপাদন পর্যায়েও মূল্য সংযোজনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের ওপর ১৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে।

আগে একস্তরে শুধু আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলেই চলত। ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ৩০ জুন, ২০১৯ পর্যন্ত এ সুযোগ বহাল ছিল। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্তে এরপর সেটি তুলে নেয়া হয়।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এই সিলিং নির্ধারণ প্রসঙ্গে বলেছে, শুধুমাত্র আমদানি পর্যায়ে অপরিশোধিত প্রতি টন ভোজ্যতেলের ওপর একস্তরে ১৬ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সম্প্রতি ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। এ বাড়তি দামের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি ভোজ্যতেলে তিন স্তরে ভ্যাট পদ্ধতিকেও দায়ী করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে দাম ও ভ্যাট পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে ট্যারিফ কমিশনকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ট্যারিফ কমিশন যে সুপারিশ দিয়েছে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।’

নানা ধরনের তেলের মধ্যে দেশে সয়াবিন ও পাম অয়েলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। দেশে পণ্যটি আমদানিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তিন স্তর পদ্ধতিতে ভ্যাটের  হার ঠিক রাখা যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারেও।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ভোজ্যতেলের বাজারে উর্ধ্বগতি চলছে। বিশ্ববাজারে উর্ধ্বগতির কারণ দেখিয়ে উৎপাদকেরা মোড়কজাত ও খোলা সব ধরনের তেলের দাম লিটারে বাড়িয়ে দিয়েছেন ১০ টাকা। করেনার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা-ভোক্তা। পরিস্থিতি সামলাতে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। শেষ পর্যন্ত খোলা তেলে দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হলেও বোতলজাতে দাম অপরিবর্তিতই থেকে যায়।

ট্যারিফ কমিশন ও বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রমতে, দেশে ছোট-বড় ১২টি উৎপাদক ও পরিশোধন কিংবা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভোজ্যতেলের বাজারে প্রতিনিধিত্ব করছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে বছরে ৮ লাখ টন অপরিশোধিত সয়াবিন ও ১২ লাখ টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পাম তেল আমদানি করা হয়। অপরিশোধিত সয়াবিনের ৩০ ভাগ প্যাকেটজাত মোড়কে এবং ৭০ শতাংশ খোলা অবস্থায় বাজারজাত হয়। আর পামতেলের ১০ ভাগ প্যাকেটজাত এবং ৯০ শতাংশ খোলা বাজারজাত হয়।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এক স্তরে ভ্যাট নির্ধারণে উৎপাদকদের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখেছে। কমিশন জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অনুযায়ী প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিনে সর্বোচ্চ ৮৫০ ডলার ও অপরিশোধিত পাম অয়েলে ৮০০ ডলার মানদণ্ড ধরে এক স্তরে ভ্যাট নির্ধারণ সম্ভব।’

কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, ‘শুধুমাত্র আমদানি পর্যায়ে অপরিশোধিত প্রতি টন ভোজ্যতেলের ওপর এক স্তরে ১৬ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত হবে। ভ্যাট আদায়ে এই সিলিং নির্ধারণ করা হলে সরকারের রাজস্বের যেমন কোনো ক্ষতি হবে না, তেমনি এ পদ্ধতি চালু হলে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। এতে  ঝামেলা কমবে ভ্যাট আদায়েও।’

কমিশনের সদস্য (বাণিজ্য নীতি বিভাগ) শাহ মো. আবু রায়হান আল বেরুনী এ প্রসঙ্গে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রস্তাবটি ভোক্তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট। আমরা অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় প্রস্তাবটির ওপর সবরকম পর্যালোচনা করে যে করণীয় পেয়েছি, তা  বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারকে পরবর্তি পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করেছি।’

এ প্রসঙ্গে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল হলেই উৎপাদকদের দায়ী করা হয়। কিন্তু কেউ জানতে চায় না বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি কি এবং দেশে পণ্যটির ওপর ভ্যাটের চাপই বা কতটা আছে?’

তিনি দাবি করেন, একস্তরে ভ্যাট আদায়ের প্রস্তাব ভোক্তার স্বার্থে। বাকি সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করছে। তবে প্রস্তাবটি আমলে নিলে ক্রেতা-ভোক্তা, আমদানিকারক, উৎপাদক ও বিক্রেতা সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে।

উপরে